গল্প লেখকঃ
Md Si Rana
(এপ্রিল – ২০১৮)
……………

বিলাশপুর গ্রামের এক দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে স্বপ্না। প্রচণ্ড বুদ্ধিমত্তার অধিকারী স্বপ্না। ছোটবেলা থেকেই ওর স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। এত গরিব ঘরের মেয়ে হয়েও এই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখার জন্যই মূলত ওর ডাকনাম স্বপ্না। আসল নাম বেদৌরা পারভীন। ঘরে চার ভাই দুই বোন ওরা। বাবা সামান্য ভ্যানচালক, মা প্যারালাইসিস হওয়ায় ঘরের সব কাজ-কর্ম করতে হয় ওকেই। শুধু তাইই নয় বাবার কোমর ব্যথার কারণে অনেক সময় বাবাকেও সাহায্য করে ভ্যান চালাতে।

দশম শ্রেণীর ছাত্রী স্বপ্নার ভাগ্যে কখনো আলাদা কোন প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু যখনই কোন বিষয়ে সমস্যা হয় তখনি সেসব বিষয়ের শিক্ষকদের বাসায় যেয়ে সমস্যার সমাধান করে আসে স্বপ্না। ঘরের রান্নাবাড়া, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে সকল কিছুই করতে হয় স্বপ্নাকে। শুধু তাই নয় অসুস্থ মায়ের সেবা করে এবং ছোট ছোট সবগুলো ভাই-বোনকে খাইয়ে পড়িয়েও বরাবরই ক্লাসের রোল এক হয় স্বপ্নার। বড় হয়ে স্বপ্নার স্বপ্ন ঢাকা মেডিকাল এ পড়া এবং এই গ্রামে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা।
দেখতে দেখতে স্বপ্না এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি তে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হল। এবার স্বপ্নার উদ্দেশ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া। এ সময় ওর সহপাঠীরা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং স্বপ্না নিজে পড়ে পরীক্ষা দিল ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
আগানী ৩০ তারিখ ফলাফল প্রকাশিত হবে।
রেজাল্ট এর দিন স্বপ্না মনে অফুরন্ত আশা নিয়ে আসছিল মেডিকেলে। যখন বাস চলছিল তখন স্বপ্না দেখছিল ও একদিন খুব বড় ডাক্তার হবে। কিন্তু হঠাৎ …!!

হঠাৎ এক্সিডেন্ট হল। নিমিষেই সেই গাড়িটার শেষ হয়ে গেল সব। থেমে গেল সেই স্বপ্ন। তারপর কি হল? কি হল সেই স্বপ্নের রাণী স্বপ্নার? সে কি চান্স পেয়েছিল?
হে সে মারা গেল। তার সেই লাশের দিকে তাকালে যে কেউ দেখতে পারবে এক চিমটি হাসি, হয়ত সেই এক চিমটি হাসি যা সে দেখছিল স্বপ্নে।
হে সে চান্স পেয়েছিল এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সে হয়েছিল প্রথম। কোন কোচিং ছাড়া, কেবল আত্মশক্তির ফলে। এভাবেই আল্লাহ তায়াল শেষ করতে পারেন এক সেকেন্ডেই কত হাজার হাজার স্বপ্নার স্বপ্ন। সেই আল্লাহ যিনি সর্বশক্তিমান।